#এইসব দিনগুলি ৫

#এইসব_দিনগুলি_৫ ঘুম থেকে উঠলাম ১০ টার দিকে।উঠেই দোকানে দৌড়।সিগারেট চাইলাম কিন্তু বেনসন পেলাম না।ডার্বিই সই।গরীবের বেনসন।সারাসকাল বেকার গেল।দুপুর নাগাদ পথ ধরলাম ঢাকার দিকে।কোর্সমেটদের বলে রেখেছি বিকালে বসুন্ধরা তে দেখা করবো।রাস্তায় আসার পথে কমলাপুর হয়ে আসা লাগে।কমলাপুর দেখেই আর দেরি করলাম না।ধুপ করে বাস থেকে নেমে পরলাম।কোর্সমেট গোল্লায় যাক,দেখা সন্ধ্যাবেলায়ও করা যাবে।আগে আমার এলাকা ঘুরে দেখি।কলেজের সামনে দিয়ে হাটা শুরু করলাম।হাটতে হাটতে স্কুলের সামনে চলে আসলাম।মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়।স্কুলের সামনে আসতেই দেখলাম উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক ছাত্র বাসার দিকে যাচ্ছে।বাজে ৩ টা, এখন স্কুল ছুটি দেয়না।এরা আসলে স্কুল পালাচ্ছে ঠিক আমার মতো।আমিও স্কুল পালাতাম ঠিক এদের মতই।এই স্কুল পালানোর জোরেই এতদূর আসতে পেরেছি।আরো অনেকদূর যাব।মাত্রতো বয়স ২২।আপাতত কারওয়ান বাজার পর‍্যন্ত যাওয়া দরকার, বেশি দূর না হেটে হেটেই যাওয়া যাবে।তবুও রিক্সা নিলাম।রিক্সা নিলাম বেইলি রোডের কাছের থেকে।এরা সবাই আমার চেনা,কিন্তু এখন আর আমাকে কেউ চেনেনা।
যাইহোক গন্তব্যে পৌছালাম ১ ঘন্টা পরে।বসুন্ধরা আজকে বন্ধ তাতে সমস্যা নেই।আড্ডা দিলাম অনেকক্ষণ। আড্ডার সাথে পাল্লা দিয়ে সিগারেট চা।আড্ডা চললো সন্ধ্যা ৬ টা পর‍্যন্ত। বলার মত তেমন কিছুই না।সবাই জোর করে হাসার চেষ্টা করেছি মাত্র। আড্ডা শেষে এখন বাড়ি ফিরতে হবে।আচ্ছা বাড়ি না ফিরে তো অন্য কোথাও যাওয়া যেতে পারে।কাছেই খালাতো বোনের বাসা আছে।আগে অনেক যাওয়া পরতো।এখন যাওয়া পরে না।আপাতত হাটতে থাকি।আপারা থাকেন ফার্মগেট, হেটেই যাবো সিদ্ধান্ত নিলাম।হাটতে হাটতে রাতের ঢাকা দেখছি।অদ্ভুত সুন্দর। হুট করে পায়ের স্যান্ডেল ছিড়ে গেল।ছেঁড়াছিঁড়ি এই প্রথম না।সাধারণত আমার হাটার স্টাইল এতই খারাপ যে আমি যখন একদল মানুষের সাথে হাটি তখন আমার সাথে আমার সাথের লোকজনের স্যান্ডেলও ছিড়ে যায়,আমার পাড়া খেয়ে। স্যান্ডেল ছিড়ে হাটছি।এক হাতে স্যান্ডেল আরেক পা খালি।এই বিষয়ে তপু একটা গান গেয়েছে এক পায়ে নুপুর আর অন্য পা খালি।লোকটা স্যান্ডেল নিয়েও লিখতে পারতো,একপায়ে স্যান্ডেল অন্যপা খালি।হাটছি আর ভালো লাগছে। এক হাতে স্যান্ডেল নিয়ে হাটছি,বিষয়টা খারাপ লাগছেনা।একপা ছোট ছোট লাগছে,কিন্তু অসুবিধে হচ্ছেনা।তবে মনে হয় বাকি পথচারীদের অসুবিধা হচ্ছে।একটা লোক একটা স্যান্ডেল হাতে নিয়ে হাটছে সেটা তারা মেনে নিতে পারছেনা।আপাতত তাদের সবার চোখ আমার স্যান্ডেলের দিকে।আমি আমার দুচোখ দিয়ে ঢাকার সৌন্দর্য দেখছি,আর তারা তাদের সব চোখ দিয়ে আমার স্যান্ডেল দেখছে।আপাতত এই স্যান্ডেলটাই একটা বিস্ময়।অথচ কেউ মুচির দোকানের সন্ধান দিচ্ছেনা।লোকগুলো আমাকে কি হিমু ভাবছে?আচ্ছা হিমু কি শহরে আছে নাকি শহর ছেড়ে চলে গেছে? এসব ভাবতে ভাবতে দেড়শ দেড়শ বলে চিল্লানির আওয়াজ পেলাম।চলে এসেছি ফার্মগেট ওরফে দেড়শতে। একটা হিমুর হলুদ পাঞ্জাবি কেনা যেতে পারে।একটা পাঞ্জাবির দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম হিমুর পাঞ্জাবি আছে? -হিমু কে? পাঞ্জাবিওয়ালার সোজাসুজি প্রশ্ন। -চেনেন না? -না। চলে এলাম সেখান থেকে।আসলেই হিমু হারিয়ে গেছে শহর থেকে ।তার আর দরকার নেই।আমি আবার হাটতে শুরু করলাম আপার বাসার দিকে,আপাতত যাওয়ার একটা গন্তব্য আছে।একহাতে স্যান্ডেল আরেক হাতে সিগারেট নিয়ে।


কৃতজ্ঞতা Lt. Shafique

Comments

Popular posts from this blog

How Entrepreneurship Lead me to Workaholism

Online Job | Cover Letter

#এইসব দিনগুলি (শেষ পর্ব)