#এইসব দিনগুলি ৭

#এইসব_দিনগুলি_৭ হ্যালো ওসি সাহেব? -হ্যা বলছি।আপনি কে?বেশ ভাবসাব নিয়ে তিনি উত্তর দিচ্ছেন। আমি আপনার থানা এলাকার একজন বাসিন্দা।আমি একটু আপনার সাথে দেখা করতে চাই। -চলে আসেন কাল সকাল এগারোটার দিকে। এগারোটা বেশি লেট হয়ে যায় না? একটু আগে আসি। -এগারো টার দিকেই আসেন। ইয়ে আমি সেনাবাহিনীর একজন লেফটেনেন্ট -ওহ,সরি স্যার।আচ্ছা ১০ টার দিকে একটু কাইন্ডলি আসুন তাহলে। ওকে। থানার ওসিদের আমাদের মতো পিটি প্যারেড নেই।তাদের ভুড়ি বাড়ার পিছনে শুধু মক্কেলদের পুকুরের ইলিশমাছ দায়ী না,এই পিটি প্যারেড না থাকাটাও অনেকাংশে দায়ী।
পরদিন সকালে আমি আমার মতন।ঘুরে বেড়াচ্ছি শহর দিয়ে।আজকেও একটা ফ্রি গাড়ি পাওয়া গেছে।যাদের কেউ নেই তাদের আছে দুলাভাই।তিনিই একটা গাড়ি পাঠায় দিছেন।এমনিতেই ঢাকা শহরে যদি একটা গাড়ি নিয়ে ঘুরা যায় তাহলে নিজেকে রাজা রাজা মনে হয়।আর যদি ফ্রি গাড়ি হয় তাহলে মহারাজা।গেলাম।বাড্ডার দিকে,পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা করা যাক।সাগরটা ফোন ধরল না।মেজাজ গরম হয়ে গেল।এসিতে মেজাজ ঠান্ডা করে নিলাম।গুলশানের দিকে একটা চক্কর দেয়া যাক।গুলশানের ফাকা রাস্তায় ছুটে বেড়াতে ভালোই লাগে। একটা ফোন এলো। -হ্যালো,আমি বাড্ডা থানা ওসি। ও হ্যা।বলুন কিভাবে সাহায্য করতে পারি? -স্যার আপনি দেখা করবেন বলছিলেন।আমিতো অপেক্ষা করে আছি। ওহ হো।আসলে আমি আরেকটা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি তো।আমি অন্য একদিন আসবনে। -আচ্ছা। এইবার আর তিনি স্যার বললেন না।বিরক্ত হয়েছেন মনে হয়।আমারো কেন যেন ভালো লাগছে।আসলে পুলিশকে বিরক্ত করতে পারলেই আমার ভাল্লাগে। আপাতত পুলিশি চিন্তা বাদ,ঘুরে আসি পলাশী থেকে।মামুনকে এক ঘন্টার বেশি ধরে অপেক্ষা করিয়ে রেখেছি।মামুন ভাল ছাত্র।বুয়েট এ পড়ে।আর পাশাপাশি নিয়মিত প্রেমে পড়ে।সে প্রেমে পড়েছে সেটা বোঝার উপায় হলো তার টাইমলাইন থেকে আগে প্রেম সংক্রান্ত সকল স্ট্যাটাস উধাও হয়ে যাবে। ইদানীং সে প্রপার সিংগেল।দুপুর শেষে বিকালের দিকে অগ্রসরমান দুপুরের শেষভাগে এসে আমার ক্ষুধা লাগলো।নান্নার বিরিয়ানি খাওয়া যেতে পারে।মামুনের অভিমত। নান্না সম্ভবত মান্নার কিছু আত্মীয় হতে পারে।চানখারপুলের নান্না বিরিয়ানি।খেতে বসলাম, ফুল প্লেট কাচ্চি আর বোরহানি আর সালাদ।এসব হোটেলের সালাদের বৈশিষ্ট্য পেয়াজের দাম বেশি হলে শসা দেয় শসার দাম বেশি হলে পেয়াজ দেয়।আর দুইটার দামই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে পেপে-গাজরে পার করে দেয়। খাবার মুখে দিতেই মামুনের মুখের দিকে তাকালাম।এটাই আমার খাওয়া সবচে বাজে বিরিয়ানি।ইচ্ছা করতেছে মামুনকে কাচা খাই।আমি।কিছুই খেতে পারলাম না।মামুন কিছু পারলো।সম্ভবত হলের খাবার খেয়ে খেয়ে তার এই অবস্থা,যা খায় তাই ভাল্লাগে।হলের খাবার নিয়ে একটা কৌতুক মনে পড়লো।হলে খাবার শেষে অনেকেই কনফিউজড থাকে ডালের পানি দিয়ে ভাত খেল নাকি হাত ধোয়া পানি দিয়ে।জোকসটা শুনে আমার তেমন হাসি পায়নি,যেমন আপনাদেরও পেলনা এখন।যাইহোক বিল দেয়ার সময় ক্যাশিয়ার কে একটা ঝাড়ি দিয়ে বললাম কিসব ছাই-ছাতা খাওয়ালেন, কোনো জাতেরই হয়নি।ক্যাশিয়ার আমার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে,দেখে মনে হচ্ছে এরকম করে কোনো কাস্টমার তাকে বলতে পারে সেটা সে স্বপ্নেও ভাবেনি।ইচ্ছা করতেছে তার মুখের ভিতরে একটা পাচ টাকার কয়েন ফেলে দিই।কয়েন দিয়ে বলি,নাও ঝাড়ি তো হজম করতে পারোনি এই কয়েনটা হজম করো। এর মিনিট তিরিশেক পরে দেখা পিয়াসের সাথে।পিয়াসের বর্তমান অবস্থা দেখে আমার ভয় লাগতেছে।থপথপ করে হাটে।পিয়াসের বর্তমান অবস্থা আর আমার কলেজের অবস্থা একই ছিল।পিয়াসের ওজন কতো হতে পারে এখন? ১০০ কেজি? গাড়ি করে ঘুরলেও পকেটের অবস্থা করুন,মাত্র ২৩২ টাকা আছে।আপাতত আমার কাছে অনেক টাকা।অনেক কাপ চা হতে পারে।চায়ের ব্যাপারে অনিন্দ্য ভাইয়ের অনীহা আছে তবে তিনি কফি খেতে ভালবাসেন।উনার দেখাদেখি আমিও অনেকবার কফি খেতে চেয়েছি কিন্তু ভুলে ভুলে পান করে ফেলেছি।একদিন উনার কাছে গিয়ে কফি খাওয়া শিখতে হবে।আপাতত উনি আগারগাওয়ে ন্যাশনাল প্যারেড গ্রাউন্ডে রগড়া খাচ্ছেন। আপাতত মাথায় ঘুরছে নান্না-মান্না,ভালোনা তাদের রান্না।



কৃতজ্ঞতা Lt. Shafique

Comments

Popular posts from this blog

How Entrepreneurship Lead me to Workaholism

Online Job | Cover Letter

#এইসব দিনগুলি (শেষ পর্ব)