#এইসব দিনগুলি (শেষ পর্ব)

#এইসব_দিনগুলি_শেষ আজকে আমার ছুটি শেষ।চলে যাচ্ছি সিলেট। কিভাবে যাবো সেটা এখনো ঠিক করিনি। কোথাও যাওয়ার সময় আমার খুব ভালো লাগে।কারন এই একটা সময়েই জীবনের একটা নির্দিষ্ট গন্তব্য থাকে।সব ভাবেই সিলেট যাওয়া যায়,কিন্তু আমার ইচ্ছা করছে বাসের ছাদে করে যেতে।একবার এরকম বাসের ছাদে কোথাও এক জায়গা গিয়েছিলাম।
ব্যাপারটা খুব সহজ,ফুরুফুরে মুক্ত হাওয়া।শুধু নাকেমুখে একটু বালি ঢুকে যায় আর ছাদে ওঠার সাথে সাথে ছাদের রডের সাথে পা বেধে নিতে হয়।নাহলে বাস ঠিকমতো জায়গায় পৌছালেও ততক্ষনে আপনি পৌছে যাবেন নিকটস্থ হাসপাতালের মর্গে অথবা স্বর্গে।আর এসব ব্যাপারে বাসের গায়ে এইজন্যই লিখা থাকে নিজ নিজ মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখুন। বাসে করেই যাচ্ছি।রাস্তায় তীব্র জ্যাম,আমি কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছি।এই সুযোগে বাসের ভিতরে হকার উঠে গেছে।আমি হেডফোন নাময়ে রাখলাম।ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পরে এই হকারদের সচারাচর চোখে পরবে না।এদের বিক্রির ধরন অসাধারণ, বিবিএ এমবিএ করা ছেলেরা এদের কাছে নস্যি। ইনি এনেছেন বিদ্যুৎ কালো নিমের মাজন।বিদ্যুতের রঙ কালো তা অবশ্য জানতাম না।"এইযে মাজনটি দেখছেন এটা আমাদের বিখ্যাত মাজন,আজিজ কোম্পানির অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।দাতে পোকা,দাঁতভাঙ্গা, দাতে ব্যাথা,পান খায়া খায়া দাত তরমুজের বিচির মতো কালা কইরা ফালাইছেন।এক ফাইল নিয়া যান,যদি কাজ না হইছে আপনার জুতা আর আমার গাল।" আমি এক ফাইল নিয়ে নিলাম।আমার সিনিয়র অফিসারদের মাঝেমাঝে আমি দাঁতভাঙা জবাব দেই।এবার থেকে দাঁতভাঙ্গা জবাবের পরে এই মাজনটা নিরাময় হিসেবে দেবো। ভাই মাজনে কাজ হবেতো? -নাহইলে আপনার জুতা আমার গাল।এক বাড়ি দিয়া পিশা ফেলবেন। আমিতো জুতা পরিনা,বুট পরি।বুট দিয়ে বাড়ি দিলে হবে? আমি আর কোনোদিকে না তাকিয়ে কানে হেডফোন গুজে নিলাম। আজকে আমার ছুটি শেষ।আসার সময় এবার আর আম্মু কাদেনি।অভ্যাস হয়ে গেছে,গত ৪ বছর ধরেই এই আসাযাওয়ার মধ্যে আছি।পাশের টংয়ের দোকানদারের অবশ্য মন খারাপ।এর একটা কারন হতে পারে তার একটা বড়সড় কাস্টমার কমে যাওয়া।পাশের বাড়ির পিচ্চি আজমাইন কিছুক্ষন মন খারাপ করে থাকবে।কয়েক প্যাকেট চিপসেই সে আমার ভক্ত হয়ে গিয়েছিল। গতকাল আমার জন্মদিন ছিল।এবার ২৩ পেরিয়ে ২৪ এর পথে।গত ২৩ বছরে যেটা ঘটেনি সেটা এবার হয়েছে।আমার নামে জন্মদিনের গিফট এসেছে।তাও আবার একটা না দুটো।আমি কিছুটা অবাক,যার মা আর ভাই বাদে কোনো আত্মীয়স্বজন নেই তার নামে আবার গিফট আসে কি করে।দুটো গিফটের একটার প্রেরণকারী কে সেটা জানতে পেরেছি।২য় টা জানতে পারিনি।অবশ্য জানার দরকারও নেই।যার গিফট তার কাছেই ফেরত যাবে।আমি কোনোটাই নেইনি,শুধু শুধু ঋনের বোঝা নিতে চাইনা।আমি ঋণমুক্ত অবস্থায় দুনিয়া ছাড়তে চাই।আমি হচ্ছি হিমু ভক্ত।হিমুরা কারো দেয়া কিছু নেয়না। এর আগেও অবশ্য একটা গিফট পেয়েছিলাম, জন্মদিনে নয়,এমনিতেই।দিয়েছিল আমার স্কুলের সহপাঠী রাজিব।ছেলেটা বছর সাতেক আগে বাবা মায়ের সাথে রাগ করে আত্মহত্যা করেছে।কলিজা আছে তার বলা চলে।কোনো একটা কারনে বাবা-মা তাকে বলেছিল, তার পিছনে শুধু শুধু টাকা নষ্ট করছেন উনারা।সহ্য করলো না ছেলেটা।একেবারে ঝুলে পড়লো!! নাকি বিষ খেয়েছিল?মনে পড়ছেনা।এখন ওর বাবা-মার আর কারোর পিছনে তাদের কস্টের টাকা নষ্ট করতে হয়না। আজকে আমার ছুটি শেষ।আমার বাসা এখন খালি।আম্মু আবার ভুল।করে কাল সকালে না আবার দুইজনের খাবার রান্না করে ফেলেন।অথবা ভোর সকালেই তাজা মাছের সন্ধানে বাজারে চলে যান।এই কদিনে এইসব অভ্যাস হয়ে গেছে না!!আর কারোর কিছুই যাবে আসবেনা।অনন্যাটা জানবেও না কখন এলাম কখন গেলাম।সবই আগের মতন থাকবে।কাল সকালে সূর‍্যোদয় ০৬:০০ তে।পিটির সময় :০৬:৩০ তে।ধন্যবাদ।


লিখেছেন Shafiqur Rahman Nishad

Comments

Popular posts from this blog

How Entrepreneurship Lead me to Workaholism

Online Job | Cover Letter