#এইসব দিনগুলি ৮- বিশেষ দিনটি

#এইসব_দিনগুলি_৮
"শুভ জন্মদিন নিশাদ,হ্যাভ এ গুড ডে"-রাত ১২:০১ মিনিটে নিজেকেই নিজে শুভেচ্ছা জানালাম।
আজকে আমার জন্মদিন।
এটা মাথাগরম করার মতো একটা খবর।সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে,সেই বৃষ্টির পানিতে মাথা ভিজিয়েও মাথা ঠান্ডা করা করা গেলনা।এইরকম একটা দিনে আমার জন্ম হয়েছিল ভেবেই অবাক লাগছে।দিনটা কি এরকমই ছিল সেদিন।আমার অবশ্য মনে নেই।
শুধু ছোটবেলায় শুনেছি আমার জন্মের সময় আমার পিতা ৫ কেজি আম পাঠিয়েছিলেন।খুবই বুদ্ধিমানের কাজ,যারা আমাকে দেখতে আসবে তারা আমমুখ করে যাবে।সবসময় মিষ্টিমুখ করা একটা খারাপ অভ্যাস।
আমার এখন তেমন কোনো কাজ নেই।বসে আছি আগারগাওয়ে ন্যাশনাল প্যারেড গ্রাউন্ডে অনিন্দ্য ভাইয়ের রুমে।আজকে আমার জন্মদিন এটা তিনি জানেন না।আসলে কেউই জানেনা।তবে কিছুক্ষণ পরে অনেকেই জানবে ফেসবুকের কল্যানে তবে দুই একজন ছাড়া।এই দুই একজনই শুধুমাত্র জন্মতারিখ মনে রেখেছে।কারা হতে পারে তারা? আম্মু,ভাইয়া।রানা আর মোজাম্মেল!! অনন্যা কি মনে রেখেছে? না রাখারই কথা।
আশেপাশে আমার অনেক কোর্সমেট আছে।তারা ঘুমাচ্ছে।আমি আর অনিন্দ্য ভাই মিলে জন্মদিন পালন করছি।টংয়ের দোকানের একটা কেক,সকালের একটা বাসি প্যাটিস আর কফি দিয়ে।এই কফি সম্পর্কে অনিন্দ্য ভাইয়ের সতর্কবার্তা এই কফি খাওয়ার পরে দুইধরনের চিন্তা মাথায় আসতে পারে।এক,এতো ভাল কফি খেয়ে অন্য কোনো জায়গার কফি খাওয়ার ইচ্ছা হবেনা।দুই,এতো জঘন্য কফি খেয়ে কফির উপর থেকে শ্রদ্ধা সব উঠে যাবে।আমার কফির উপর থেকে সব শ্রদ্ধা উঠে গেল।কেকের সাথে একটা মোম অবশ্য পাওয়া গেল।অনিন্দ্য ভাই গুগল এপস থেকে একটা মোমের এপস ডাউনলোড করেছেন। মোমে ফু দেয়ার সাথে সাথেই নিভে গেল।এই হলো আমার জন্মদিনের আয়োজন। খারাপ না কিন্তু।কেক কাটার ঝামেলা নেই,অতিথি আপ্যায়ন করার চিন্তা নেই।আচ্ছা এরকম করলে কেমন হয়,আমার বিয়েতে কোনো কাউকে দাওয়াত না দিলে?কোনো ঝামেলা মুক্ত বিয়ে।
ইচ্ছা করেই ফেসবুক খুলতে ইচ্ছে করছেনা, কেননা জানি অনেকেই শুভকামনা জানিয়ে বলবে শুভ জন্মদিন।অথচ আমি জানিই না দিনটা কেমন যাবে।তারপরেও ফেসবুকে ঢুকলাম।ঢুকেই মেশিনগানের গুলির মতো আওয়াজ হলো।একগাদা ম্যাসেজ এসেছে।দেখতে ইচ্ছে হলোনা।সানিয়াত কল করেছে।সে অবশ্য সবসময় বিভিন্ন উপলক্ষ্যে ফোন দেয়।ছেলেটা ভালমনের খারাপ মানুষ।খারাপ কি জন্য সেটা অন্যদিন বলবো।
আপাতত আমরা মুভি দেখছি।অনিন্দ্যভাইয়ের ভাষায় কাবজাবের মুভি।আমার অবশ্য খারাপ লাগছেনা।নায়িকাটা সুন্দর।আমার ভালো লাগছে।নায়িকার দিকে তাকিয়ে সব দু:খ ভুলে গেলাম এবং ঘুমিয়ে গেলাম।ঘুম ভাঙল ১০ টার দিকে।রাত থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে।সুতরাং আজকে প্যারেড অফ।আমি আর অনিদা এক ঝটকায় বাইরে চলে এলাম।বাইরে এসে দেখি সবাই যে যার তাবুতে বিশ্রাম নিচ্ছে।জনাকয়েক পুলিশ একটা ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে ভুড়ি মালিশ করছে।আমি গিয়ে তার ভুড়িটা একবার ডলে দিয়ে আসলে কেমন হয়?আমার জন্মদিনে এইটুকু আবদার করা কি অনুচিত হবে।
আমরা গেলাম টংয়ের চা খেতে। টংয়ের দোকানে এক টাউট টাইপ লোকের সাথে কথা হলো।তিনি অত্যন্ত ক্ষমতাবান বলে নিজেকে দাবী করলেন।অনিন্দ্য ভাইয়ের কাছে তিনি অকারনেই নিজের ক্ষমতার কথা বলে বেড়াতে লাগলেন।অনিদা যেটা করলেন তা আরো অবাক করার মতন।তিনি একটা চাকরি চান এই বলে সেই লোকটার কাছে নিজের নাম্বার দিয়ে এলেন।এরপরে আমরা গেলাম খাওয়াদাওয়া করতে।হোটেলের নাম উজানভাটি, কিন্তু ভিতরে ঢুকে বুঝলাম তার অবস্থা ফাটাফাটি।হোটেলের গায়ে আকা চিংড়ী দেখিয়ে ওয়েটারকে বললাম এটা এনে দাও।জানাল এগুলা প্রচারের জন্য,বিক্রির জন্য নয়।আমরা হতাশ হয়ে কাচ্চি অর্ডার করলাম।
-৫ মিনিট বহেন স্যার।
-না না আমাদের সময়ের অনেক দাম,৫ মিনিট বুঝিস শালা।
আমরা চলে এলাম।কাচ্চি না খেয়ে আমরা ২য় বার হতাশ হলাম আর হোটেলওয়ালা চোখের সামনে দিয়ে দুটো কাচ্চি বের হতে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
আমরা মোরগ পোলাও খেলাম।আহামরি নয় আহাবাচিও নয়!!বিপত্তি হল বিল দিতে গিয়ে এক হাজার টাকার নোট।অনিদার মতে,এই শহরে একহাজার টাকার নোট আর ফুটা পয়সা দুইটাই অচল।
আজ আমার জন্মদিন, আমি একা একা বাড়ি ফিরছি।আজ যথারীতি সকালে পূর্বদিকেই সূর‍্য্য উঠেছে,ঢাকায় জ্যামও পরেছে।প্রেসক্লাবের সামনে মির্জা সাহেব আন্দোলনও করছেন।আজ তেমন কোনো বিশেষ দিন না তাহলে,আমি এতক্ষনে নিশ্চিত হলাম।
আজ আমার জন্মদিন, আজ কারো কিছু যায় আসেনা।সত্যিই কিনা?তাহলে রাত ১২:০১ মিনিটে সবার আগে যে অনন্যার করা শুভকামনার ম্যাসেজ যা দেখে অনিন্দ্যভাইও চমকে গেলেন?
শুধু আমিই জানি রাত ১১:৫৯ এ করা আমার ম্যাসেজ এর কথা
"Its my birthday, you can wish if you want"


লিখেছেন Shafiqur Rahman Nishad

Comments

Popular posts from this blog

How Entrepreneurship Lead me to Workaholism

Online Job | Cover Letter

#এইসব দিনগুলি (শেষ পর্ব)